
ভূমিকা
রেজুলেশন হলো কোনো সভা বা মিটিংয়ে আলোচনা করে গৃহীত সিদ্ধান্তের লিখিত ও অনুমোদিত নথি। সমিতি, সামাজিক সংগঠন, ক্লাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা নতুন কমিটি গঠনের সময় সঠিক নিয়মে রেজুলেশন লেখা প্রয়োজন হয়।
এই নির্দেশিকায় রেজুলেশন কী, কীভাবে লিখতে হয়, রেজুলেশনের প্রয়োজনীয় অংশ এবং নতুন কমিটি গঠন ও মাসিক সভার পূর্ণাঙ্গ নমুনা সহজ ভাষায় দেখানো হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নাম, তারিখ, পদ, স্থান ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নমুনাগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।
রেজুলেশন কী?
সভায় উপস্থিত সদস্যদের আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করাকে রেজুলেশন বলা হয়। এটি সভার কার্যবিবরণীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রেজুলেশনে সাধারণত সভার তারিখ, সময়, স্থান, সভাপতির নাম, উপস্থিত সদস্যদের তালিকা, আলোচ্যসূচি, আলোচনা, গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর থাকে।
একটি সঠিক রেজুলেশন থেকে পরবর্তীতে সহজেই জানা যায়:
- সভাটি কখন ও কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সভায় কারা উপস্থিত ছিলেন।
- কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।
- কোন সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়েছিল।
- সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হয়েছিল।
রেজুলেশন কেন প্রয়োজন?
রেজুলেশন প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের লিখিত প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। মৌখিক সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে ভুলে যাওয়া বা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু রেজুলেশন খাতায় সিদ্ধান্ত লিখে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর গ্রহণ করলে দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত পরিষ্কার থাকে।
রেজুলেশন প্রয়োজন হওয়ার কয়েকটি সাধারণ ক্ষেত্র হলো:
১। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন।
২। পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত বা পুনর্গঠন।
৩। ব্যাংক হিসাব খোলা বা পরিচালনাকারী পরিবর্তন।
৪। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা।
৫। আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন।
৬। উন্নয়ন প্রকল্প বা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত।
৭। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম বা গঠনতন্ত্র সংশোধন।
৮। দায়িত্ব বণ্টন ও কর্মকর্তা নির্বাচন।
৯। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
১০। মাসিক, বার্ষিক বা বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ।
রেজুলেশন ও সভার কার্যবিবরণীর পার্থক্য
সভায় কে কী বলেছেন এবং কী কী আলোচনা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণকে সভার কার্যবিবরণী বা Meeting Minutes বলা হয়।
অন্যদিকে, আলোচনা শেষে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, সেটিই রেজুলেশন। একই নথিতে কার্যবিবরণী এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত দুটোই লেখা যেতে পারে।
রেজুলেশন লেখার প্রয়োজনীয় অংশ
একটি পূর্ণাঙ্গ রেজুলেশনে নিচের বিষয়গুলো থাকা উচিত।
১. প্রতিষ্ঠানের প্যাড বা পরিচিতি
রেজুলেশনের শুরুতে সংগঠন, সমিতি বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাড থাকলে সেটি ব্যবহার করা ভালো।
প্যাডে সাধারণত প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, লোগো, যোগাযোগের তথ্য, প্রতিষ্ঠাকাল এবং প্রয়োজন হলে স্লোগান উল্লেখ থাকে।
২. সভার ধরন
সভাটি সাধারণ সভা, মাসিক সভা, বার্ষিক সভা, জরুরি সভা নাকি বিশেষ সভা—তা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
৩. তারিখ, সময় ও স্থান
সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ, বার, সময় এবং স্থানের পূর্ণ বিবরণ লিখতে হবে। বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো একটি তারিখের ধরন ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করা ভালো।
৪. সভাপতির নাম
কার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাঁর নাম ও পদবি উল্লেখ করতে হবে।
উদাহরণ:
“আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে বিকেল ৪টায় সমিতির কার্যালয়ে জনাব কুদুস আলী মিয়ার সভাপতিত্বে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।”
৫. উপস্থিত সদস্যদের তালিকা
সভায় উপস্থিত সদস্যদের নাম ও পদবি ধারাবাহিকভাবে লিখতে হবে। প্রয়োজনে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া যেতে পারে।
কোনো সদস্য অনুপস্থিত থাকলে আলাদা অনুপস্থিত সদস্যের তালিকাও রাখা যায়।
৬. আলোচ্যসূচি
সভায় যেসব বিষয়ে আলোচনা হবে সেগুলো ক্রমানুসারে লিখতে হবে। আলোচ্যসূচি সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট এবং বিষয়ভিত্তিক হওয়া উচিত।
৭. আলোচনা ও সিদ্ধান্ত
প্রতিটি আলোচ্য বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সংক্ষেপে লিখে তার নিচে গৃহীত সিদ্ধান্ত উল্লেখ করতে হবে।
সিদ্ধান্ত লেখার সময় অস্পষ্ট বাক্য পরিহার করতে হবে। কে, কী কাজ, কত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করবে—সম্ভব হলে তা স্পষ্ট করে লিখতে হবে।
৮. সভার সমাপ্তি ও স্বাক্ষর
আলোচনা শেষে সভাপতি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করবেন।
সবশেষে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরের জায়গা রাখতে হবে।
রেজুলেশন লেখার সাধারণ কাঠামো
একটি সাধারণ রেজুলেশন নিচের ধারাবাহিকতায় লেখা যায়:
১। প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা।
২। সভার ধরন।
৩। তারিখ, সময় ও স্থান।
৪। সভাপতির নাম।
৫। উপস্থিত সদস্যদের তালিকা।
৬। আলোচ্যসূচি।
৭। সভার কার্যবিবরণী।
৮। গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ।
৯। সভার সমাপ্তি।
১০। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর।
নতুন কমিটি গঠনের রেজুলেশন লেখার নমুনা
নিচের নমুনাটি সামাজিক সংগঠন, সমিতি, ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
প্রতিষ্ঠানের নাম: …………………………………
সভা নম্বর: …………………………………
তারিখ: …………………………………
সময়: …………………………………
স্থান: …………………………………
সভার সূচনা
আজ ……………………… তারিখে ……………………… সংগঠনের কার্যালয়ে সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব/জনাবা ………………………। সভার প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা।
গৃহীত সিদ্ধান্ত
উপস্থিত সদস্যদের আলোচনা ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে নিম্নলিখিত সদস্যদের সমন্বয়ে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়:
১। সভাপতি: …………………………………
২। সহসভাপতি: …………………………………
৩। সাধারণ সম্পাদক: …………………………………
৪। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: …………………………………
৫। সাংগঠনিক সম্পাদক: …………………………………
৬। কোষাধ্যক্ষ: …………………………………
৭। প্রচার সম্পাদক: …………………………………
৮। দপ্তর সম্পাদক: …………………………………
৯। কার্যনির্বাহী সদস্য: …………………………………
সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, নবগঠিত কমিটি আগামী …………… বছর দায়িত্ব পালন করবে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কমিটি প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, হিসাব সংরক্ষণ, নিয়মিত সভা আয়োজন এবং উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করবে।
সভার সমাপ্তি
পরিশেষে সভাপতি নবগঠিত কমিটির সদস্য এবং সভায় উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সভাপতির নাম ও স্বাক্ষর: …………………………………
সাধারণ সম্পাদকের নাম ও স্বাক্ষর: …………………………………
উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষর: …………………………………
সভা ও সমিতির রেজুলেশন লেখার পূর্ণাঙ্গ নমুনা
বিভিন্ন সমিতি, কমিটি বা সংগঠনের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময় পরপর সভা আয়োজন করতে হয়। সভায় আলোচিত বিষয় ও গৃহীত সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করাই রেজুলেশনের প্রধান উদ্দেশ্য।
নিচে একটি কাল্পনিক সমিতির মাসিক সভার পূর্ণাঙ্গ রেজুলেশন দেওয়া হলো।
মাসিক সভার রেজুলেশন ও সিদ্ধান্ত
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রতিষ্ঠানের নাম: ………………………………… সমিতি
ঠিকানা: ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম
সভার ধরন: মাসিক সাধারণ সভা
সভা নম্বর: ০৫/২০২৬
তারিখ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৬
সময়: বিকেল ৪টা
স্থান: সমিতির কার্যালয়
সভাপতি: জনাব কুদুস আলী মিয়া
আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে বিকেল ৪টায় সমিতির কার্যালয়ে জনাব কুদুস আলী মিয়ার সভাপতিত্বে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দ
১। মো. সোলেমান রশিদ
২। মো. তপন বিশ্বাস
৩। সন্দীপ বড়ুয়া
৪। মোসা. মোমেনা হক
৫। মোসা. সাজেদা আক্তার
৬। মো. চৌধুরী বন্যা হাওলাদার
৭। মো. আদিবা আমিন
৮। মো. তৌকি হক
সভার আলোচ্যসূচি
১। বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন।
২। নতুন সদস্যদের পরিচিতি এবং সদস্যপদ অনুমোদন।
৩। বিগত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা।
৪। সমিতির আয়-ব্যয় ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা।
৫। উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ।
৬। বিবিধ।
সভার কার্যবিবরণী
সভাপতি উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু করেন। সাধারণ সম্পাদক বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করে শোনান। উপস্থিত সদস্যরা কার্যবিবরণীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এরপর নতুন সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের সদস্যপদ অনুমোদনের বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়। বিগত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
কোষাধ্যক্ষ সমিতির বর্তমান আয়-ব্যয় এবং তহবিলের হিসাব সভায় উপস্থাপন করেন। সদস্যরা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, আয় বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ
১। বিগত সভার কার্যবিবরণী কোনো সংশোধন ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হলো।
২। আবেদনকারী নতুন সদস্যদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই সাপেক্ষে সমিতির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।
৩। বিগত সভার অসম্পূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
৪। কোষাধ্যক্ষের উপস্থাপিত আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হলো।
৫। সমিতির বিনিয়োগ প্রস্তাব যাচাই করে পরবর্তী সভায় বিস্তারিত পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
৬। প্রতি মাসে অন্তত একটি সাধারণ সভা আয়োজন এবং সভার কার্যবিবরণী রেজুলেশন খাতায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।
সভা সমাপ্তি
সভায় আর কোনো আলোচ্য বিষয় না থাকায় সভাপতি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সভাপতির নাম ও স্বাক্ষর: …………………………………
সাধারণ সম্পাদকের নাম ও স্বাক্ষর: …………………………………
কোষাধ্যক্ষের নাম ও স্বাক্ষর: …………………………………
উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষর: …………………………………
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন লেখার সংক্ষিপ্ত নমুনা
আজ ……………………… তারিখে ……………………… শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান জনাব/জনাবা ………………………-এর সভাপতিত্বে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, পরীক্ষার প্রস্তুতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়ন এবং বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে নিচের সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়:
১। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
২। পরীক্ষার আগে প্রতিটি বিষয়ে অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক ক্লাস নেওয়া হবে।
৩। শ্রেণিকক্ষ পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪। বার্ষিক অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি উপকমিটি গঠন করা হবে।
সভাপতি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সভাপতির স্বাক্ষর: …………………………………
সদস্যসচিবের স্বাক্ষর: …………………………………
উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষর: …………………………………
রেজুলেশন লেখার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
- সভার তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ না করা।
- সভাপতির নাম ও পদবি বাদ দেওয়া।
- উপস্থিত সদস্যদের তালিকা না রাখা।
- আলোচ্যসূচি ও সিদ্ধান্ত একসঙ্গে অস্পষ্টভাবে লেখা।
- সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার, তা উল্লেখ না করা।
- অসম্পূর্ণ বা দ্ব্যর্থবোধক বাক্য ব্যবহার করা।
- প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর গ্রহণ না করা।
- রেজুলেশন খাতায় পৃষ্ঠা নম্বর ব্যবহার না করা।
- অনুমোদনের পর মূল লেখায় কাটাকাটি বা পরিবর্তন করা।
- যাচাই না করে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য প্রকাশ করা।
রেজুলেশন Word থেকে PDF করার নিয়ম
এই পোস্টের প্রয়োজনীয় নমুনাটি Microsoft Word-এ নিয়ে সহজেই PDF তৈরি করতে পারবেন।
১। প্রয়োজনীয় নমুনাটি Copy করুন।
২। Microsoft Word খুলে Paste করুন।
৩। প্রতিষ্ঠানের নাম, তারিখ, স্থান, সদস্য ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন।
৪। লেখার বানান এবং তথ্য আবার যাচাই করুন।
৫। File মেনু থেকে Save As নির্বাচন করুন।
৬। File type থেকে PDF নির্বাচন করে Save করুন।
স্বাক্ষরযুক্ত নথি প্রয়োজন হলে আগে রেজুলেশন Print করে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের স্বাক্ষর নিন। এরপর নথিটি Scan করে PDF হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারবেন।
রেজুলেশন সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন
রেজুলেশন খাতা কী?
যে রেজিস্টার বা খাতায় প্রতিষ্ঠানের সভার কার্যবিবরণী এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত ধারাবাহিকভাবে লেখা হয়, সেটি রেজুলেশন খাতা।
রেজুলেশনে কার স্বাক্ষর প্রয়োজন?
সাধারণত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী কোষাধ্যক্ষ, সদস্যসচিব অথবা উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষরও নেওয়া যেতে পারে।
হাতে লেখা রেজুলেশন গ্রহণযোগ্য কি?
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মে হাতে লেখা রেজুলেশন ব্যবহার করা যায়। তবে লেখা পরিষ্কার, সংশোধনমুক্ত এবং যথাযথভাবে স্বাক্ষরিত হওয়া প্রয়োজন।
কম্পিউটারে লেখা রেজুলেশন ব্যবহার করা যাবে কি?
হ্যাঁ। কম্পিউটারে লিখে Print করার পর প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের স্বাক্ষর নেওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নিয়ম থাকলে সেটি অনুসরণ করতে হবে।
রেজুলেশন কত দিন সংরক্ষণ করা উচিত?
গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক রেজুলেশন স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা ভালো। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সংরক্ষণের সময় নির্ধারণ করা উচিত।
উপসংহার
একটি ভালো রেজুলেশন সংক্ষিপ্ত, নির্ভুল এবং সিদ্ধান্তভিত্তিক হয়। এতে সভার তারিখ, সময়, স্থান, উপস্থিত সদস্য, আলোচ্যসূচি, গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হয়।
উপরের নমুনাগুলো অনুসরণ করে সমিতি, সামাজিক সংগঠন, নতুন কমিটি, মাসিক সভা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী রেজুলেশন তৈরি করতে পারবেন। কোনো সরকারি, ব্যাংকিং বা আইনগত কাজে ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম ও ফরম্যাট যাচাই করে নিন।

ধন্যবাদ
ধন্যবাদ
ধন্যবাদ
ভাইয়া একজন শিক্ষক মারা গেলে মানেজিং কমিটি কিভাবে রেজলুসন লিখবে এক্তা নমুনা দিতে পারবেন। অনেক উপকৃত হব যদি দেন। আমার মোবাইল নাম্বার 01724604170