Headline
চাকুরী হতে অব্যাহতি পত্র, ছাড় পত্র, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ছাড় পত্র
চাকুরী হতে অব্যাহতি পত্র | ছাড় পত্রল | ডকফাইল | পিডিএফ ফাইল
নূরানী পদ্ধতীতে কুরআন শিক্ষা | নূরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ | নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৬ষ্ঠ পর্ব
নূরানী পদ্ধতীতে কুরআন শিক্ষা | নূরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ  |  নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৬ষ্ঠ পর্ব
নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৫ম পর্ব | নূরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ | নূরানী পদ্ধতীতে কুরআন শিক্ষা
নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৫ম পর্ব | নূরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ | নূরানী পদ্ধতীতে কুরআন শিক্ষা
তাবলিগ জামাতের ছয় উসুল | ৬ নাম্বারের বয়ান | ছয় সিফাতের আলোচনা | দাওয়াত তাবলীগের পিডিএফ বই | তাবলীগের কাজ কি?
তাবলিগ জামাতের ছয় উসুল | ৬ নাম্বারের বয়ান | ছয় সিফাতের আলোচনা | দাওয়াত তাবলীগের পিডিএফ বই | তাবলীগের কাজ কি?
নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৪র্থ পর্ব
নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য়_সংস্করণ ৪র্থ_পর্ব
চিকিৎসা ছুটির আবেদন
চিকিৎসা ছুটির আবেদন
CPC, CPM, CPA, CTR and CPL (5 advertising metrics explained)
CPC, CPM, CPA, CTR and CPL (5 advertising metrics explained)
নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৩য় পর্ব
নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৩য় পর্ব
নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ২য় পর্ব
নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ২য় পর্ব

নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৩য় পর্ব

নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৩য় পর্ব
Spread the love

Table of Contents

নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৩য় পর্ব

সম্মানিত বন্ধুগন আজকে আমরা এই ৩য় পর্বে ذ থেকে ی শেষ করে ৭ম ত্ববক্বা পর্যন্ত শিখবো।

জাল (ذ) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- ‘আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে সুন্দর করে একটা (দাল) লেখেন।’ তারপর ওস্তাদ বলবেন সকলে বোর্ডে দেখেন। উপরে এইভাবে (.) একটা নুক্তা দেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন-বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার ( ذ – ذ) (জাল-জাল বলে) মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

তারপর ওস্তাদ বলবেন ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’- এই হরফে নুক্তা আছে? ছাত্ররা উত্তর দিবে, আছে। ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কোন দিকে? ছাত্ররা উত্তর বলবে- উপরে, ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কয় নুক্তা? ছাত্ররা উত্তরে বলবে- এক নুক্তা। তখন ওস্তাদ বোর্ডে হাত দিয়ে ধরে (৩ বার) পড়াবেন- জাল-এর উপর এক নুক্তা, জাল-এর উপর এক নুক্তা (ইয়াদ হওয়ার জন্য যতবার প্রয়োজন ততবার পড়াবেন) এবং বলবেন- শ্লেট হাতে নেন হাতে ধরে পড়বেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে মশক করাইবেন আর ছাত্ররা হাতে ধরে পড়বে জাল-এর উপর এক নুক্তা। এইভাবে নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ (বিশ) বার । (তারপর ওস্তাদের বোর্ডের লেখা পরিষ্কার করবেন, ছাত্রদের শ্লেটের লেখা থাকবে) এবং ছাত্রদেরকে সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর করবেন :

সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর:

১. নুক্তা মুছেন,

২. দেখান,

৩. নাম বলেন,

৪. নুক্তা দেন,

৫. দেখান,

৬. নাম বলেন, এইভাবে সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

কঠিন প্রশ্নে পাঁচ দাউর:

১. দাল বানান,

২. দেখান,

৩. জাল বানান,

৪. দেখান। এইভাবে কঠিন প্রশ্ন পাঁচ দাউর । ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন।

বি. দ্র. প্রণালী :

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

২. নুকতার মশক কমপক্ষে ২০ বার ।

৩. সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

৪. কঠিন প্রশ্ন পাঁচ দাউর।

ছীন (س) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- আপনারা সকলে বোর্ডে আমার হাতের দিকে দেখতে থাকেন। এ কথা বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা ছীন ( س) লিখবেন এবং বলবেন, আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে একটা লেখেন । ছাত্ররা লিখবে, তারপর ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার ( س – س ) (ছীন-ছীন বলে) হরফের নাম মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন, সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ বোর্ডের ডান দিক থেকে কয়েকটা ছীন লিখবেন, লিখার সময় পড়বেন। তারপর ওস্তাদ বলবেন, আপনাদের শ্লেটের ডান দিক থেকে এইভাবে লিখতে থাকেন, পড়তে থাকেন। (এইখানে ওস্তাদের কাজ হচ্ছে ছাত্রদেরকে একটা একটা লিখিয়ে দেয়া)। ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট দেখান, ছাত্ররা শ্লেট দেখালে ওস্তাদ বলবেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছে। আরো সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করবেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট পরিষ্কার করেন। ছাত্ররা শ্লেট পরিষ্কার করবে।

 

শীন (ش) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- ‘আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে সুন্দর করে একটা ش (শীন) লেখেন ।’ তারপর ওস্তাদ বলবেন সকলে বোর্ডে দেখেন। উপরে এইভাবে (:.) তিনটা নুক্তা দেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার (ش – ش) (শীন-শীন বলে) মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

তারপর ওস্তাদ বলবেন ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’- এই হরফে নুক্তা আছে? ছাত্ররা উত্তর দিবে, আছে। ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কোন দিকে? ছাত্ররা উত্তর বলবে- উপরে, ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কয় নুক্তা? ছাত্ররা উত্তরে বলবে- তিন নুক্তা। তখন ওস্তাদ বোর্ডে হাত দিয়ে ধরে (৩ বার) পড়াবেন- শীন-এর উপর তিন নুক্তা, শীন-এর উপর তিন নুক্তা (ইয়াদ হওয়ার জন্য যতবার প্রয়োজন) এবং বলবেন- শ্লেট হাতে নেন হাতে ধরে পড়বেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে মশক করাইবেন আর ছাত্ররা হাতে ধরে পড়বে শীন-এর উপর তিন নুক্তা। এইভাবে নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ (বিশ) বার । (তারপর ওস্তাদের বোর্ডের লেখা পরিষ্কার করবেন, ছাত্রদের শ্লেটের লেখা থাকবে) এবং ছাত্রদেরকে সহজ প্রশ্ন করবে পাঁচ দাউর :

সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাওর:

১. নুক্তা মুছেন,

২. দেখান,

৩. নাম বলেন,

৪. নুক্তা দেন,

৫. দেখান,

৬. নাম বলেন, এইভাবে সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

কঠিন প্রশ্নে পাঁচ দাউর:

১. ছীন বানান,

২. দেখান,

৩. শীন বানান,

৪. দেখান। এইভাবে কঠিন প্রশ্ন পাঁচ দাউর । ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন।

বি. দ্র. প্ৰণালী :

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

২. নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ বার ।

৩. সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

৪. কঠিন প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

ছোয়াদ (ص) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- আপনারা সকলে বোর্ডে আমার হাতের দিকে দেখতে থাকেন। এ কথা বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা ছোয়াদ (ص) লিখবেন এবং বলবেন, আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে একটা লেখেন । ছাত্ররা লিখবে, তারপর ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার (ص – ص) (ছোয়াদ-ছোয়াদ বলে) হরফের নাম মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন, সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ বোর্ডের ডান দিক থেকে কয়েকটা ছোয়াদ লিখবেন, লিখার সময় পড়বেন। তারপর ওস্তাদ বলবেন, আপনাদের শ্লেটের ডান দিক থেকে এইভাবে লিখতে থাকেন, পড়তে থাকেন। (এইখানে ওস্তাদের কাজ হচ্ছে ছাত্রদেরকে একটা একটা লিখিয়া দেয়া)। ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট দেখান, ছাত্ররা শ্লেট দেখালে ওস্তাদ বলবেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছে-আরো সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করবেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট পরিষ্কার করেন। ছাত্ররা শ্লেট পরিষ্কার করবে।

দোয়াদ (ض) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- ‘আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে সুন্দর করে একটা (ص) লেখেন ।’ তারপর ওস্তাদ বলবেন সকলে বোর্ডে দেখেন। উপরে এইভাবে (.) একটা নুক্তা দেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার ( ض – ض) (দোয়াদ-দোয়াদ বলে) মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

মৌখিক প্রশ্নোত্তোর:

তারপর ওস্তাদ বলবেন ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’- এই হরফে নুক্তা আছে? ছাত্ররা উত্তর দিবে, আছে। ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কোন দিকে? ছাত্ররা উত্তরে বলবে- উপরে, ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কয় নুক্তা? ছাত্ররা উত্তরে বলবে- এক নুক্তা। তখন ওস্তাদ বোর্ডে হাত দিয়ে ধরে (৩ বার) পড়াবেন- দোয়াদ-এর উপর এক নুক্তা, দোয়াদ-এর উপর এক নুক্তা (ইয়াদ হওয়ার জন্য যতবার প্রয়োজন) এবং বলবেন- শ্লেট হাতে নেন হাতে ধরে পড়বেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে মশক করাইবেন আর ছাত্ররা হাতে ধরে পড়বে দোয়াদ-এর উপর এক নুক্তা। এইভাবে নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ (বিশ) বার । (তারপর ওস্তাদের বোর্ডের লেখা পরিষ্কার করবেন, ছাত্রদের শ্লেটের লেখা থাকবে) এবং ছাত্রদেরকে সহজ প্রশ্ন করবেন পাঁচ দাউর :

সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাওর:

১. নুক্তা মুছেন,

২. দেখান,

৩. নাম বলেন,

৪. নুক্তা দেন,

৫. দেখান

৬. নাম বলেন, এইভাবে সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৩য় পর্ব কঠিন প্রশ্নে পাঁচ দাউর:

১. ছোয়াদ বানান,

২. দেখান,

৩. দোয়াদ বানান,

৪. দেখান। এইভাবে কঠিন প্রশ্ন পাঁচ দাউর । ওস্তাদ বলবেন, শেট পরিষ্কার করেন ।

বি. দ্র. প্রণালী :

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

২. নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ বার ।

৩. সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

৪. কঠিন প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

নুন (ن) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- আপনারা সকলে বোর্ডে আমার হাতের দিকে দেখতে থাকেন। এ কথা বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা নুন (৬) লিখবেন এবং বলবেন, আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে একটা লেখেন। ছাত্ররা লিখবে, তারপর ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার (১৬) নুন-নুন বলে) হরফের নাম মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

তারপর ওস্তাদ বলবেন ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’- এই হরফে নুক্তা আছে? ছাত্ররা উত্তর দিবে, আছে। ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কোন দিকে? ছাত্ররা উত্তর বলবে- উপরে, ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কয় নুক্তা? ছাত্ররা উত্তরে বলবে- এক নুক্তা। তখন ওস্তাদ বোর্ডে হাত দিয়ে ধরে (৩ বার) পড়াবেন- নুন-এর উপর এক নুক্তা, নুন-এর উপর এক নুক্তা (ইয়াদ হওয়ার জন্য যতবার প্রয়োজন) এবং বলবেন- শ্লেট হাতে নেন হাতে ধরে পড়বেন-বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে মশক করাইবেন আর ছাত্ররা হাতে ধরে পড়বে নুন-এর উপর এক নুক্তা। তারপর ওস্তাদ বলবেন- আপনাদের শ্লেটের ডান দিক থেকে এইভাবে লিখতে থাকেন, পড়তে থাকেন। তখন ছাত্ররা কয়েকটি নুন শ্লেটে লেখবে এবং পড়বে (এইখানে ওস্তাদের কাজ হচ্ছে ছাত্রদেরকে একটা একটা লিখিয়া দেয়া)। ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট দেখান, ছাত্ররা শ্লেট দেখালে ওস্তাদ বলবেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছে। আরও সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করবেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট পরিষ্কার করেন। ছাত্ররা শ্লেট পরিষ্কার করবে।

বি. দ্র. প্রণালী :

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

২. লেখা পড়া কমপক্ষে এক ঘন্টা

৩. নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ বার। (পড়ার সময় নুক্তাসহ বলা )

নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৩য় পর্ব ক্বাফ (ق) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- আপনারা সকলে বোর্ডে আমার হাতের দিকে দেখতে থাকেন। এ কথা বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা ক্বাফ (ق) লিখবেন এবং বলবেন, আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে একটা লেখেন। ছাত্ররা লিখবে, তারপর ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার (ق ق) (ক্বাফ-ক্বাফ বলে) হরফের নাম মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

তারপর ওস্তাদ বলবেন ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’- এই হরফে নুক্তা আছে? ছাত্ররা উত্তর দিবে, আছে। ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কোন দিকে? ছাত্ররা উত্তর বলবে- উপরে, ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কয় নুক্তা? ছাত্ররা উত্তরে বলবে- দুই নুক্তা। তখন ওস্তাদ বোর্ডে হাত দিয়ে ধরে (৩ বার) পড়াবেন- ক্বাফ-এর উপর দুই নুক্তা, ক্বাফ-এর উপর দুই নুক্তা (ইয়াদ হওয়ার জন্য যতবার প্রয়োজন) এবং বলবেন- শ্লেট হাতে নেন হাতে ধরে পড়বেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে মশক করাইবেন আর ছাত্ররা হাতে ধরে পড়বে ক্বাফ-এর উপর দুই নুক্তা। এইভাবে নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ (বিশ) বার ।

ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন, সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ বোর্ডের ডান দিক থেকে কয়েকটা ক্বাফ লিখবেন এবং নুক্তাসহ পড়বেন। লিখার সময় পড়বেন ক্বাফ-এর উপর দুই নুক্তা। তারপর ওস্তাদ বলবেন, আপনাদের শ্লেটের ডান দিক থেকে এইভাবে লিখতে থাকেন, পড়তে থাকেন। (এইখানে ওস্তাদের কাজ হচ্ছে ছাত্রদেরকে একটা একটা লিখিয়া দেয়া)। ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট দেখান, ছাত্ররা শ্লেট দেখালে ওস্তাদ বলবেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছে। আরও সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করবেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট পরিষ্কার করেন। ছাত্ররা শ্লেট পরিষ্কার করবে ।

বি. দ্র. প্ৰণালী

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

২. লেখাপড়া কমপক্ষে এক ঘন্টা।

৩. নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ (বিশ) বার। (পড়ার সময় নুক্তাসহ বলা) ।

লাম (ل ) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন— আপনারা সকলে বোর্ডে আমার হাতের দিকে দেখতে থাকেন। এ কথা বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা লাম (ل) লিখবেন এবং বলবেন, আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে একটা লেখেন। ছাত্ররা লিখবে, তারপর ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার ( ل – ل) লাম-লাম বলে) হরফের নাম মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন, সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ বোর্ডের ডান দিক থেকে কয়েকটা লাম লিখবেন, লিখার সময় পড়বেন লাম-লাম। তারপর ওস্তাদ বলবেন, আপনাদের শ্লেটের ডান দিক থেকে এইভাবে লিখতে থাকেন, পড়তে থাকেন। (এইখানে ওস্তাদের কাজ হচ্ছে ছাত্রদেরকে একটা একটা লিখিয়া দেয়া)। ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট দেখান, ছাত্ররা শ্লেট দেখালে ওস্তাদ বলবেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছে। আর ও সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করবেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট পরিষ্কার করেন। ছাত্ররা শ্লেট পরিষ্কার করবে।

বি. দ্র. প্রণালী:

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

২. লেখাপড়া কমপক্ষে এক ঘন্টা।

হামযাহ (ء) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- আপনারা সকলে বোর্ডে আমার হাতের দিকে দেখতে থাকেন। এ কথা বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা হামযাহ (ء) লিখবেন এবং বলবেন, আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে একটা লেখেন । ছাত্ররা লিখবে, তারপর ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার (ء ء) (হামযাহ হামযাহ বলে) হরফের নাম মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন, সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ বোর্ডের ডান দিক থেকে কয়েকটা হামযাহ লিখবেন, লিখার সময় পড়বেন হামযাহ হামযাহ। তারপর ওস্তাদ বলবেন, আপনাদের শ্লেটের ডান দিক থেকে এইভাবে লিখতে থাকেন, পড়তে থাকেন। তখন ছাত্ররা কয়েকটি হামযাহ ء শ্লেটে লেখবে এবং পড়বে (এইখানে ওস্তাদের কাজ হচ্ছে ছাত্রদেরকে একটা একটা লিখিয়া দেয়া)। ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট দেখান, ছাত্ররা শ্লেট দেখালে ওস্তাদ বলবেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছে। আর ও সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করবেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট পরিষ্কার করেন। ছাত্ররা শ্লেট পরিষ্কার করবে।

বি. দ্র. প্রণালী:

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

২. লেখাপড়া কমপক্ষে এক ঘন্টা।

আইন (ع) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- আপনারা সকলে বোর্ডে আমার হাতের দিকে দেখতে থাকেন। এ কথা বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা আইন (ع) লিখবেন এবং বলবেন, আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে একটা লেখেন । ছাত্ররা লিখবে, তারপর ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার (ع ع) (আইন-আইন বলে) হরফের নাম মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন, সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ বোর্ডের ডান দিক থেকে কয়েকটা হামযাহ লিখবেন, লিখার সময় পড়বেন আইন-আইন। তারপর ওস্তাদ বলবেন, আপনাদের শ্লেটের ডান দিক থেকে এইভাবে লিখতে থাকেন, পড়তে থাকেন। তখন ছাত্ররা কয়েকটি আইন শ্লেটে লেখবে এবং পড়বে (এইখানে ওস্তাদের কাজ হচ্ছে ছাত্রদেরকে একটা একটা লিখিয়া দেয়া)। ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট দেখান, ছাত্ররা শ্লেট দেখালে ওস্তাদ বলবেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছে। আরও সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করবেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট পরিষ্কার করেন। ছাত্ররা শ্লেট পরিষ্কার করবে।

বি. দ্র. প্ৰণালী:

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

২. লেখাপড়া কমপক্ষে এক ঘন্টা।

গাইন (غ) পড়ানোর নিয়ম

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- ‘আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে সুন্দর করে একটা আইন  عলেখেন।’

তারপর ওস্তাদ বলবেন সকলে বোর্ডে দেখেন। উপরে এইভাবে (.) একটা নুক্তা দেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার (غ) (গইন- গইন বলে) মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

প্রশ্নোত্তরে নুক্বতার পরীক্ষা:

তারপর ওস্তাদ বলবেন ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’- এই হরফে নুক্তা আছে? ছাত্ররা উত্তর দিবে, আছে। ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কোন দিকে? ছাত্ররা উত্তরে বলবে- উপরে, ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কয় নুক্তা? ছাত্ররা উত্তরে বলবে- এক নুক্তা। তখন ওস্তাদ বোর্ডে হাত দিয়ে ধরে (৩ বার) পড়াবেন- গাইন-এর উপর এক নুক্তা, গইন-এর উপর এক নুক্তা (ইয়াদ হওয়ার জন্য যতবার প্রয়োজন) এবং বলবেন- শ্লেট হাতে নেন হাতে ধরে পড়বেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে মশক করাইবেন আর ছাত্ররা হাতে ধরে পড়বে গাইন-এর উপর এক নুক্তা। এইভাবে নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ (বিশ) বার । (তারপর ওস্তাদ বোর্ডের লেখা পরিষ্কার করবেন, ছাত্রদের শ্লেটের লেখা থাকবে) এবং ছাত্রদেরকে সহজ প্রশ্ন করবেন পাঁচ দাউর।

সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর :

১. নুক্তা মুছেন,

২. দেখান,

৩. নাম বলেন,

৪. নুক্তা দেন,

৫. দেখান,

৬. নাম বলেন, এইভাবে সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

কঠিন প্রশ্নে পাঁচ দাউর:

১. আইন বানান,

২. দেখান,

৩. গাইন বানান,

৪. দেখান। এইভাবে কঠিন প্রশ্ন পাঁচ দাউর । ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন।

বি. দ্র. প্রণালী:

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

২. নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ বার ।

৩. সহজ প্রশ্ন পাঁচ দাউর।

৪. কঠিন প্রশ্ন পাঁচ দাউর ।

হা (ہ) পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- আপনারা সকলে বোর্ডে আমার হাতের দিকে দেখতে থাকেন। এ কথা বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা গোল হা (ہ) লিখবেন এবং বলবেন, আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে একটা লেখেন । ছাত্ররা লিখবে, তারপর ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার (ہ – ہ) (হা-হা বলে) হরফের নাম মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন, সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ বোর্ডের ডান দিক থেকে কয়েকটা হামযাহ লিখবেন, লিখার সময় পড়বেন হা-হা-হা। তারপর ওস্তাদ বলবেন, আপনাদের শ্লেটের ডান দিক থেকে এইভাবে লিখতে থাকেন, পড়তে থাকেন। তখন ছাত্ররা কয়েকটি হা শ্লেটে লেখবে এবং পড়বে (এইখানে ওস্তাদের কাজ হচ্ছে ছাত্রদেরকে একটা একটা লিখিয়া দেয়া)। ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট দেখান, ছাত্ররা শ্লেট দেখালে ওস্তাদ বলবেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছে। আরও সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করবেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট পরিষ্কার করেন। ছাত্ররা শ্লেট পরিষ্কার করবে।

বি. দ্র. প্ৰণালী:

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার।

২. লেখা পড়া কমপক্ষে এক ঘন্টা ।

ইয়া (ی) পড়ানোর নিয়ম

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন- আপনারা সকলে বোর্ডে আমার হাতের দিকে দেখতে থাকেন। এ কথা বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা ইয়া (ی) লিখবেন এবং বলবেন, আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে একটা লেখেন । ছাত্ররা লিখবে, তারপর ওস্তাদ বলবেন শ্লেট উল্টাইয়া রাখেন, সকলে আমার মুখের দিকে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে কয়েকবার (ی ی) (ইয়া-ইয়া বলে) হরফের নাম মশক করাইবেন এবং বলবেন, এইভাবে হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

তারপর ওস্তাদ বলবেন ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’- এই কথা বলে ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- এই হরফে নুক্তা আছে? ছাত্ররা উত্তর দিবে, আছে। ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কোন দিকে? ছাত্ররা উত্তর বলবে- নীচে, ওস্তাদ প্রশ্ন করবেন- কয় নুক্তা? ছাত্ররা উত্তরে বলবে- দুই নুক্তা। তখন ওস্তাদ বোর্ডে হাত দিয়ে ধরে (৩ বার) পড়াবেন- ইয়া’র নীচে দুই নুক্তা, ইয়া’র নীচে দুই নুক্তা । (ইয়াদ হওয়ার জন্য যতবার প্রয়োজন) এবং বলবেন- শ্লেট হাতে নেন হাতে ধরে পড়বেন বলে ওস্তাদ ছাত্রদের সারির মাঝে হেঁটে হেঁটে মশক করাইবেন আর তরীকায়ে তা’লীম-৩৩

 

ছাত্ররা হাতে ধরে পড়বে ইয়া’র নীচে দুই নুক্তা। এইভাবে নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ (বিশ) বার ।

ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট পরিষ্কার করেন, সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন বলে ওস্তাদ বোর্ডের ডান দিক থেকে কয়েকটা ইয়া লিখবেন, লিখার সময় নুক্তাসহ পড়বেন। তারপর ওস্তাদ বলবেন, আপনাদের শ্লেটের ডান দিক থেকে এইভাবে লিখতে থাকেন, পড়তে থাকেন এবং পড়ার সময় নুক্তাসহ বলিবেন। যেমন- ইয়া’র নীচে দুই নুক্তা। তখন ছাত্ররা কয়েকটি ইয়া শ্লেটে লেখবে এবং পড়বে (এইখানে ওস্তাদের কাজ হচ্ছে ছাত্রদেরকে একটা একটা লিখিয়া দেয়া)। ওস্তাদ বলবেন, শ্লেট দেখান, ছাত্ররা শ্লেট দেখালে ওস্তাদ বলবেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছে। আরও সুন্দর করে লেখার চেষ্টা করবেন। ওস্তাদ বলবেন শ্লেট পরিষ্কার করেন। ছাত্ররা শ্লেট পরিষ্কার করবে।

বি. দ্র. প্ৰণালী :

১. হরফের নামের মশক কমপক্ষে ১০০ বার ।

২. লেখা পড়া কমপক্ষে এক ঘন্টা।

৩. নুক্তার মশক কমপক্ষে ২০ বার (পড়ার সময় নুক্তাসহ বলা)।

হরফের তমিজ:

ওস্তাদ বলবেন- সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন, বলে বোর্ডে ত্বা-তা ( ت – ط  ) লিখবেন। ত্বা’-তার নীচে হাত ধরে ছাত্রদেরকে বলবেন, বলেন- তখন ছাত্ররা উত্তরে বলবে ত্বা-তা ( ت – ط  ) ওস্তাদ বোর্ড পরিষ্কার করে  ( ظ – ذ  )  জো- জাল লিখে হাতে ধরে দেখাবে, ছাত্ররা উত্তরে বলবে- ( ظ – ذ  ) জো-জাল। এইভাবে সব হরফকে বোর্ডে লিখে শিক্ষা দিবেন ।

( ت – ط ، ذ – ظ ، س – ص ، ہ – ح ، ز – ج ، ک – ق )

তারপর ওস্তাদ বলবেন, চক শ্লেট হাতে নেন আমি বলার সঙ্গে সঙ্গে আপনারা লিখবেন। এ কথা বলে ওস্তাদ মুখে বলবেন, ত্বা, ছাত্ররা লিখবে ত্বা, ওস্তাদ বলবেন দেখান, ছাত্ররা দেখাবে, ওস্তাদ বলবেন মুছেন, ছাত্ররা মুছবে। এইভাবে তমিজের সব হরফগুলো শিক্ষা দিবেন ।

২৯ হরফের তারতীব:

হরফের তমিজের কাজ শেষ হলে ওস্তাদ বলবেন- সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন- বলে ওস্তাদ বোর্ডে ( ا – ی  ) আলিফ থেকে ইয়া পর্যন্ত লিখে ওস্তাদ প্রত্যেকটি হরফের নীচে হাত রেখে বলবেন- ‘বলেন’ ছাত্ররা বলবে- এভাবে (আলিফ থেকে ইয়া ) পর্যন্ত ২৯ হরফের তারতীব শিক্ষা দিবেন।

প্রথম তবকা পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’ বলিয়া দুই টা আলিফ বোর্ডের মাঝখানে লিখবেন। (।।) প্রথমটার উপর যবর, দ্বিতীয়টার নীচে যের দিবেন। ‘আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে লেখেন’ বলে ওস্তাদ হেঁটে হেঁটে দেখবেন; তারপর বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখেন, আপনাদের শ্লেটে এইভাবে হাত রাখেন’ এরপর ওস্তাদ বলবেন, ‘ওপরের টার নাম যবর’ হেঁটে হেঁটে পড়াবেন। ‘এই ভাবে একশত বার’ ।

তারপর বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’ আপনাদের শ্লেটে এইভাবে হাত রাখেন’ এরপর ওস্তাদ বলবেন, ‘নীচেরটার নাম যের’ হেঁটে হেঁটে পড়াবেন । এইভাবে একশত বার। ওস্তাদ বলবেন, ‘শ্লেট পরিষ্কার করেন।’ ‘সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন, আমি এখন হাত রাখবো, আপনারা পুরা নাম বলবেন’ ওস্তাদের হাত রাখার পর ছাত্ররা উত্তরে বলবে ‘উপরেরটার নাম যবর, নীচেরটার নাম যের’, এইভাবে পাঁচ মিনিট ।

দ্বিতীয় তবকা পড়ানোর নিয়ম (পরীক্ষা):

ওস্তাদ বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন, আমি এখন পরীক্ষা নিব, আপনারা পাশ করতে চান’ উত্তরে ছাত্ররা বলবে, জি। ‘পাশ করতে চাইলে খুব খেয়াল করবেন’ এই বলে ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে এইভাবে (-) একটা টান দিবেন। তারপর বলবেন ‘বলেন’ ছাত্ররা উত্তর দিবে যবর, ওস্তাদ বলবেন, ‘ফেল, ঠিক করে বলেন।’ ছাত্ররা উত্তর দিবে যের, ওস্তাদ বলবেন ‘ফেল, এখানে কোন হরফ আছে? ছাত্ররা উত্তর দিবে না। ওস্তাদ বলবেন ‘হরফ ছাড়া যের-যবর হয় না’ ওস্তাদ ঐ চিহ্নের নীচে একটি হরফ লিখবেন- ( اَ ) ‘বলেন’ ছাত্ররা উত্তর দিবে- যবর, ওস্তাদ বলবেন, ‘মাশাআল্লাহ সবাই পাশ করেছেন’ ওস্তাদ আবার চিহ্নের উপর একটা হরফ  ( اِ )লিখবেন। ছাত্ররা উত্তর দিবে- যের, ওস্তাদ বলবেন, ‘সাবাশ । এইভাবে ২৯ হরফ দিয়ে দেখাইতে হবে।

তৃতীয় তবকা পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখেন’ বলে বোর্ডের মাঝখানে একটা আলিফ লেখবেন- । উপরে একটা পেশ দিবেন।( اُ ) ‘আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে এইভাবে লেখেন’ বলে ওস্তাদ হেঁটে হেঁটে দেখবেন; তারপর বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখেন, আপনাদের শ্লেটে এইভাবে হাত রাখেন’ এরপর ওস্তাদ বলবেন, ওপরে এক মাথা গোলটার নাম পেশ’ হেঁটে হেঁটে পড়াবেন। ‘এই ভাবে একশত বার, শ্লেট পরিষ্কার করেন।

চতুর্থ তবকা পড়ানোর নিয়ম (পরীক্ষা) তিন কাজ:

প্রম কাজ:  ওস্তাদ বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন’ বলে ওস্তাদ বোর্ডে একটু ফাঁক করে পাশাপাশি তিনটা আলিফ লিখবেন, ( ‍اَ – اِ – اُ  ) প্রথমটার ওপর যবর, দ্বিতীয়টায় যের, তৃতীয়টায় পেশ দিবেন। তারপর ওস্তাদ বলবেন, ‘আমি এখন হাত রাখব আপনারা শুধু নাম বলবেন’ এই বলে ওস্তাদ প্রথমে যবরের পাশে হাত রাখবেন, ছাত্ররা উত্তর দিবে যবর, যবর, যবর ওস্তাদ বলবেন, ‘৫০ বার’। ওস্তাদ যেরের পাশে হাত রাখিলে, ছাত্ররা উত্তর দিবে, যের যের, যের ওস্তাদ বলবেন, ৫০ বার। পেশের পাশে হাত রাখিলে, ছাত্ররা উত্তর দিবে পেশ, পেশ, পেশ ওস্তাদ বলবেন এভাবে ৫০ বার’  বলেন।

দ্বিতীয় কাজ:  ওস্তাদ বলবেন, ‘আমি এখন উল্টাপাল্টা হাত রাখব, আপনারা পাশ করতে চান ?  ছাত্ররা উত্তর দিবে জী, ওস্তাদ বলবেন, ‘পাশ করতে চাইলে আমার হাত রাখার একটু পরে বলবেন’ তখন উল্টা-পাল্টা যের, যবর, পেশের পাশে হাত রাখবেন, ছাত্ররা উত্তর দিবেন । না পারলে বলেদিবেন।

তৃতীয় কাজ: দুর্বল ছাত্রদের দাঁড় করাইয়া পরীক্ষা নিবে, ওস্তাদ বলবেন, (যে কোন একজনকে লক্ষ করে) ‘দাঁড়ান’ এরপর ওস্তাদ তখন উল্টা-পাল্টা যের, যবর, পেশের পাশে হাত রাখবেন, ছাত্ৰ উত্তর দিবে ।

পঞ্চম তবকা পড়ানোর নিয়ম:

ওস্তাদ প্রথমে বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন’ বলে ওস্তাদ বোর্ডে একটু ফাঁক করে পাশাপাশি তিনটা আলিফ লিখবেন, ( ‍اَ – اِ – اُ  ) প্রথমটার ওপর যবর, ২য় টায় যের, ৩য় টায় পেশ দিবেন। লেখার পর ওস্তাদ বোর্ডে হাত দিয়ে পড়াবেন, ‘এক যবর, এক যের, এক পেশকে ‘হরকত’ বলে’ এভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে তিনবার বলার পর বলবেন ‘হরকতের উচ্চারণ তাড়াতাড়ি করিতে হয়।’ এরপর ওস্তাদ পুরাটা বলবেন, ‘এক যবর এক যের এক পেশকে হরকত বলে, হরকতের উচ্চারণ তাড়াতাড়ি করিতে হয়।’ মুখস্ত করানো পর্যন্ত পড়াতে হবে ।

ষষ্ঠ তবকা পড়ানোর নিয়ম:

প্রথমে ওস্তাদ বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন’ বলে বোর্ডের মাঝখানে একটু ফাঁক করে পাশাপাশি চারটি আলিফ লিখবেন, ১ম টার ওপর যবর, ২য় টায় যের, ৩য় টায় পেশ এবং চতুর্থটায় যজম দিবেন এবং চতুর্থ আলিফে হাতে ধরে পড়াইবে ‘এটার নাম যজম, এটার নাম জযম, এটার নাম জযম’, ওস্তাদ না থেমে সাথে সাথে বলবেন, ‘জযম, জযম, জযম। তারপর হাতে ধরে পড়াইবেন, ( – اْ‍اَ – اِ – اُ   ء – )  ‘আলিফে যবর, যের, পেশ, জযম হইলে হামযা’র উচ্চারণ হয়।’ ছাত্ররা বলার সময় আলিফের ডানে ওস্তাদ হামযাহ লিখবেন এবং হাতে দেখাইবেন। মুখস্ত করানো পর্যন্ত পড়াতে হবে ।

সপ্তম তবকা পড়ানোর নিয়ম:

১. প্রথমে ওস্তাদ বলবেন, ‘সকলে বোর্ডে দেখতে থাকেন’ বলিয়া ওস্তাদ বোর্ডের মাঝখানে একটা হামযাহ লিখবেন যবর দিলেন (ءَ)। আমার সঙ্গে বলেন, [ হরফের সঙ্গে ৩ বার ] [ হরকতের সঙ্গে ৩ বার ] [ নীচে ] ৩ বার’ সাথে সাথে ছাত্ররা বলবে। তারপর দাউর দিবেন ‘হরফের সঙ্গে, হরকতের সঙ্গে, নীচে ১ বার।’

২. তারপর ওস্তাদ বলবেন, ‘আমি এখন হাতে প্রশ্ন করবো আপনার মুখে উত্তর দিবেন’ ওস্তাদ বোর্ডে হরফের সঙ্গে হাত রাখবেন, ছাত্ররা মুখে উত্তর দিবে হরফের সঙ্গে, ‘এভাবে ওস্তাদ ৩ বার হাতে প্রশ্ন করবেন, ছাত্ররা ৩ বার  মুখে উত্তর দিবে। তারপর হরকতের সঙ্গে হাত রাখবেন, ছাত্ররা মুখে উত্তর দিবে- হরকতের সঙ্গে, এভাবে ওস্তাদ ৩ বার হাত রাখবেন, ছাত্ররা ৩ বার উত্তর দিবে। তারপর নীচে হাত রাখবেন, ছাত্ররা মুখে উত্তর দিবে- নীচে, এভাবে ওস্তাদ ৩ বার হাত রাখবেন, ছাত্ররা ৩ বার উত্তর দিবে। তারপর এই পড়াটাই দাউর দিবেন ১ বার ।

৩. ওস্তাদ বলবেন, ‘আপনাদের শ্লেটের মাঝখানে একটা হামযাহ লিখেন, যবর দেন’ তারপর ওস্তাদ বলবেন, ‘আমি এখন মুখে প্রশ্ন করবো আপনারা হাতে উত্তর দিবেন’ (ওস্তাদ যখন পড়াবেন তখন হাটি হাটি দেখবেন ছাত্ররা হাত ঠিক জায়গায় রাখছে কিনা) ওস্তাদ বলবেন ‘হরফের সঙ্গে’ ৩ বার, তখন ছাত্ররা হরফের সঙ্গে হাত রাখবে ৩ বার, । ওস্তাদ বলবেন, ‘হরকতের সঙ্গে, ৩ বার, তখন ছাত্ররা হরকতের সঙ্গে হাত রাখবেন ৩ বার, । ওস্তাদ বলবেন, ‘নীচে’ ৩ বার, তখন ছাত্ররা নীচে হাত রাখবে ৩ বার। তারপর ওস্তাদ একবার একবার করে দাউর দিবেন। ছাত্ররা হাত রাখবে ।

৪. তারপর ওস্তাদ বলবেন, ‘হরফের সঙ্গে হাত রাখেন’ ছাত্ররা হরফের সঙ্গে হাত রাখবে, ওস্তাদ বলবেন, ‘হরফের সঙ্গে হাত রাখিলে হরফের নাম’ ৩ বার, ছাত্ররা সাথে সাথে পড়বে। ‘হরকতের সঙ্গে হাত রাখেন’ ছাত্ররা হরকতের সঙ্গে হাত রাখবেন, ওস্তাদ বলবেন, ‘হরকতের সঙ্গে হাত রাখিলে হরকতের নাম’ ৩ বার, ছাত্ররা সাথে সাথে পড়বে। ‘নীচে হাত রাখেন’ ছাত্ররা নীচে হাত রাখবে, ওস্তাদ বলবেন, ‘নীচে হাত রাখিলে দুয়োটার দিকে দেখিয়া উচ্চারণ’ ৩ বার, ছাত্ররা সাথে সাথে পড়বে। তারপর দাউরে ওস্তাদ বলবেন, ‘হরফের সঙ্গে হাত রাখিলে হরফের নাম’ ‘হরকতের সঙ্গে হাত রাখিলে হরকতের নাম’ ‘নীচে হাত রাখিলে দুয়োটার দিকে দেখিয়া উচ্চারণ’ ছাত্ররাও পড়বে, ‘হরফের সঙ্গে হাত রাখিলে হরফের নাম’ হরকতের সঙ্গে হাত রাখিলে হরকতের নাম; ‘নীচে হাত রাখিলে দুয়োটার দিকে দেখিয়া উচ্চারণ’

নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৩য় পর্বের সমাপ্তি:

 

সম্মানিত বন্ধুগন নূরানী পদ্ধতিতে তরিকায়ে তালিম ২য় সংস্করণ ৩য় পর্ব ৭ম ত্ববকা পর্যন্ত।  মনোযোগ সহকারে পড়বেন তাহলে অনেক উপকৃত হতে পারবেন। ইনশা আল্লাহ।  ১ম ও ২য় পর্ব যদি না দেখে থাকেন তাহলে দেখে আসতে পারেন। নীচে লীংক দেয়া হল। আগামী পর্বে ( ৪র্থ পর্বে ) আমরা হরকতে ছালাছা পড়ানোর নিয়ম শিখবো। ইনশা আল্লাহ।

প্রথম পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন:  👉 প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন: 👉 দ্বিতীয় পর্ব

I'm a Normal Person.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Go To Top